বিশ্বজুড়ে চলতি বছর সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ বিক্রি ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে। বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের শীর্ষ সংগঠন সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (এসআইএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ নির্মাতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৯৯ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করে এসআইএ। অর্থাৎ প্রায় সব মার্কিন চিপ কোম্পানি এ সংগঠনের সদস্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেসব আন্তর্জাতিক চিপ কোম্পানি আছে, সেগুলোর মধ্যেও প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৬৬ শতাংশ) এসআইএর অন্তর্ভুক্ত বা এদের সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্বের অধিকাংশ চিপ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী এ জোট জানায়, ২০২৫ সালে চিপ বিক্রি দাঁড়িয়েছে ৭৯১ দশমিক ৭ বিলিয়ন বা ৭১ হাজার ৯৭০ কোটি ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বিক্রির এ উল্লম্ফন চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের পেছনে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো শত শত কোটি ডলার ব্যয় করছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডাটা করপোরেশন (আইডিসি) পূর্বাভাস দিয়েছিল, এআই অবকাঠামো ও ডাটা সেন্টারে বিনিয়োগের ফলে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর খাতের আয় রেকর্ড ৮০০ বিলিয়ন বা ৮০ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে।
চিপের বাজারে একটি বড় অংশজুড়ে আছে এনভিডিয়া, অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি) ও ইন্টেলের তৈরি উন্নত মানের কম্পিউটিং চিপ। ২০২৫ সালে এ ধরনের পণ্যের বিক্রি ৩৯ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে মোট ৩০১ দশমিক ৯ বিলিয়ন বা ৩০ হাজার ১৯০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
গত বছর চিপ বাজারে বিক্রিতে দ্বিতীয় স্থানে ছিল মেমোরি চিপ। তবে এআই প্রযুক্তির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এসব চিপের সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, যার কারণে মেমোরি চিপের দাম এখন আকাশচুম্বী।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে মেমোরি চিপের বিক্রি ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ২২৩ দশমিক ১ বিলিয়ন বা ২২ হাজার ৩১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক এ শিল্প জোটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী জন নিউফার জানান, সম্প্রতি সিলিকন ভ্যালি সফরের সময় বিভিন্ন ছোট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরাও ২০২৬ সাল নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
নিউফার বলেন, ‘সবার মুখে একই কথা শুনছি, এক বছর পর এআই খাতের প্রসারে কী ঘটবে, তা কেউ জানে না। তবে আমার কাছে এখন ক্রয়াদেশের কোনো অভাব নেই। অন্তত আগামী এক বছর আমরা প্রবৃদ্ধির একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ধারার মধ্যেই থাকছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ২০২৫ সালে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বার্ষিক বিক্রির রেকর্ড গড়েছে, যা প্রায় ৮০ হাজার কোটি ডলারের কাছাকাছি। ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী এ বিক্রির পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
নিউফারের মতে, বর্তমানের প্রায় সব আধুনিক প্রযুক্তির ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), সিক্স জি এবং স্বয়ংক্রিয় চালকবিহীন গাড়ির মতো উদীয়মান প্রযুক্তিগুলো চিপের এ শক্তিশালী চাহিদাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
চিপের কারণে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বৈপ্লবিক প্রযুক্তিগুলো এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে নিউফার বলেন, ‘তাই নীতিনির্ধারকদের উচিত এমন নীতিমালাকে অগ্রাধিকার দেয়া, যা আগামী কয়েক বছর স্থানীয় চিপ ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করবে।’
কম্পিউটার প্রসেসর, স্মার্টফোনের চিপ, ক্যামেরা সেন্সরসহ প্রায় সব ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রই চিপের ওপর নির্ভরশীল। ট্রিলিয়ন ডলারের এ শিল্প বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখছে, যেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের মতো দেশ।